অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের সঙ্গে ৩২ বছরের লড়াই: হাঁচি কেন থামে না?

হাঁচি থামত না, তবুও আশা ছাড়িনি

ছোটবেলা থেকেই আমার জীবনের সঙ্গে যেন ঠান্ডা, কাশি আর হাঁচি জড়িয়ে আছে। অন্যরা যখন ধুলাবালির মধ্যে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করে, তখন সামান্য ধুলা বা ঠান্ডা বাতাসই আমার জন্য হয়ে ওঠে অসহ্য।

একবার হাঁচি শুরু হলে যেন আর থামতেই চায় না। একটার পর একটা হাঁচি—কখনো ৫০, কখনো ৬০, আবার কখনো ৭০ বার পর্যন্ত টানা হাঁচি চলে। সঙ্গে নাক দিয়ে পানির মতো মিউকাস বের হতে থাকে। নাকের ভেতর ব্যথা করে, নাক বন্ধ হয়ে যায়, মাথা ধরে থাকে।

এভাবে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর কেটে গেছে।

অসংখ্যবার ডাক্তার দেখিয়েছি। বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খেয়েছি। ওষুধ খেলে কিছুদিন ভালো থাকি, কিন্তু ওষুধ বন্ধ করলেই আবার আগের মতো সমস্যা শুরু হয়। তখন মনে হয়, এই সমস্যার কি সত্যিই কোনো স্থায়ী সমাধান নেই?

বর্তমানে আমি প্রতি রাতে Montelukast এবং antihistamine জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করি। এগুলো খেলে কিছুটা স্বস্তি পাই। কিন্তু ধুলাবালি, ঠান্ডা বা আবহাওয়ার পরিবর্তন হলে আবার হাঁচি শুরু হয়ে যায়।

আমার হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট নেই। কিন্তু সমস্যা বেড়ে গেলে দুই নাক বন্ধ হয়ে যায়, মাথাব্যথা করে, দাঁতের মাড়িতে অস্বস্তি হয়, কান চুলকায় এবং গলা খুসখুস ও চুলকানি শুরু হয়।

অনেকবার নাকের এক্স-রে করিয়েছি। পুরোনো একটি রিপোর্টে right maxillary sinusitis-এর কথাও উল্লেখ ছিল।

ডাক্তাররা বলেছেন, আমার সমস্যার নাম allergic rhinitis।

কথাটা শুনতে হয়তো খুব সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু যে মানুষটি প্রতিদিন এই সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে, তার কাছে বিষয়টি মোটেও সহজ নয়।

আমার বয়স এখন ৩২ বছর। ছোটবেলা থেকে এত বছর ধরে এই সমস্যার সঙ্গে বসবাস করতে করতে কখনো কখনো মনে হয়—আমি কি কোনোদিন স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারব না?

ধুলাবালি দেখলে ভয় লাগে। ঠান্ডা বাতাসে অস্বস্তি হয়। কোথাও গেলে আগে ভাবতে হয়, সেখানে ধুলা আছে কি না। হঠাৎ হাঁচি শুরু হলে মানুষের সামনে বিব্রতও হতে হয়।

আর তখন মনে একটা প্রশ্নই ঘুরতে থাকে—

“এই রোগ থেকে কি কোনোদিনই মুক্তি পাব না?”

আমি জানি, হয়তো আমার মতো আরও অনেক মানুষ আছেন যারা বছরের পর বছর allergic rhinitis, sinus সমস্যা বা অতিরিক্ত হাঁচির সঙ্গে লড়াই করছেন। অনেকেই ওষুধ খেয়ে সাময়িকভাবে ভালো হন, আবার ওষুধ বন্ধ করলে সমস্যায় পড়েন।

তাই আমার এই লেখা শুধু নিজের কষ্টের কথা বলার জন্য নয়। আমি জানতে চাই—এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা কি সত্যিই সম্ভব? কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কি আমার সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করতে সাহায্য করতে পারেন?

আমি চিকিৎসা ছেড়ে দিতে চাই না।

কারণ এত বছর কষ্ট করার পরও আমার মনে এখনো একটা আশা আছে—

হয়তো একদিন এমন একটা চিকিৎসা বা সঠিক ব্যবস্থাপনা পাব, যার মাধ্যমে হাঁচি, নাক বন্ধ হওয়া আর এই постоян অস্বস্তির সঙ্গে প্রতিদিন যুদ্ধ করতে হবে না।

হয়তো পুরোপুরি রোগমুক্ত হওয়া সবসময় সম্ভব নয়, কিন্তু জীবনটাকে আরও স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক করে তোলার কোনো পথ নিশ্চয়ই আছে।

সেই আশাতেই আজও চিকিৎসার খোঁজ করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *